দেহের ভেতরে জাদুর কাঠামো ও চিকিৎসার চার ধাপ
জাদু শরীরে একা থাকে না: খাদেম, সহযোগী, পাহারাদার আর সরবরাহকারী মিলে একটি ব্যবস্থা। এটা বুঝলেই বুঝবেন চিকিৎসা কেন ধাপে ধাপে চলে।
জাদু শরীরে একা কাজ করে না, একটি গোছানো ব্যবস্থার মতো কাজ করে। এটা বুঝলে চিকিৎসা কেন সময় নেয়, তাও বোঝা যায়।
১. যারা কাজ করে
- জাদুর প্রধান খাদেম (দায়িত্বপ্রাপ্ত শয়তান)
- শরীরের ভেতরের সহযোগীরা
- বাইরের পাহারাদাররা
- মাঝে মাঝে নতুন শক্তি সরবরাহকারী শয়তান
২. যেভাবে অবস্থান নেয় ও লুকায়
- শরীরে গ্রন্থি (গিঁট) তৈরি করে এবং ভেতরে চলাচলের পথ বানায়।
- পিঠের নিচের অংশ ও কাঁধে গ্রন্থি বেঁধে চলাফেরায় প্রভাব ফেলে; নারীদের ক্ষেত্রে প্রায়ই উরু, বুক ও জরায়ুতে।
- গাঁট, জয়েন্ট ও শরীরের ফাঁকা জায়গায় লুকিয়ে থাকে এবং নিজেদের রক্ষার জন্য ঢাল তৈরি করে।
- যত দিন চিকিৎসা ছাড়া থাকে, তত শক্তিশালী হয়। জাদুকর বা ভণ্ড চিকিৎসকের কাছে গেলে আরও শক্তিশালী হয়।
- প্রধান খাদেম সাধারণত সবচেয়ে গভীরে থাকে, নারীদের ক্ষেত্রে প্রায়ই জরায়ু বা চর্বিযুক্ত অংশে, পুরুষদের ক্ষেত্রে তলপেটে।
৩. চিকিৎসার ধাপ
- প্রথম ধাপ: বাইরের সরবরাহ বন্ধ করা। ঘর থেকে ছিটানো ও পুঁতে রাখা জাদুর প্রভাব দূর করা এবং পুরো চিকিৎসাকাল জুড়ে নিয়মিত ঘরের রুকইয়াহ করা।
- দ্বিতীয় ধাপ: গ্রন্থি খোলা ও ঢাল ভাঙা। নির্দিষ্ট আয়াত দিয়ে রুকইয়াহ সেশন এবং জাদু বাতিলের আয়াত বারবার পড়া।
- তৃতীয় ধাপ: ভারসাম্য রাখা। শুধু জাদুর ওপর চাপ দিলে শয়তান বেশি কষ্ট দিতে পারে; শুধু শয়তানের ওপর চাপ দিলে নতুন খাদেম এসে জায়গা নিতে পারে। দুটোই একসাথে চলবে।
- চতুর্থ ধাপ: জায়গা অনুযায়ী চিকিৎসা। ছিটানো জাদুতে পায়ের বিশেষ গোসল; খাওয়ানো জাদুতে পেট ও জরায়ুর রুকইয়াহ; মাথায় প্রভাব বেশি হলে মাথার বিশেষ রুকইয়াহ ও গোসল।
জায়গায় হাত রেখে রুকইয়াহ: শরীরে জাদুর গ্রন্থি বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকে, তবে কিছু জায়গা বেশি স্পর্শকাতর, যেমন জরায়ু। যেখানে সমস্যা, সেখানে হাত রেখে রুকইয়াহ পড়া এবং সুনির্দিষ্ট দোয়ায় আল্লাহর সাহায্য চাওয়া সবচেয়ে উপকারী, ফলও দ্রুত আসে। নবী ﷺ ব্যথার জায়গায় হাত রেখে বিসমিল্লাহ ও আশ্রয়ের দোয়া পড়তে শিখিয়েছেন। (সহিহ মুসলিম ২২০২)
নিয়মিত রুকইয়াহ, ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে আমল করলে আল্লাহর অনুমতিতে মুক্তি আসে।
হাদিসের নম্বর প্রচলিত গণনা অনুযায়ী।