শুধু কুরআন দিয়েই কি রুকইয়াহ করতে হবে?
রুকইয়াহ কি শুধু কুরআন দিয়েই করতে হবে? জিবরাইল আ.-এর রুকইয়াহ আর সাহাবিদের আমল থেকে উত্তরটি জানুন।
কিছু রাক্বী বলেন, "আমরা শুধু কুরআন দিয়ে রুকইয়াহ করি।" নিয়ত ভালো, কিন্তু এটাকে বাধ্যতামূলক মনে করা সুন্নাহর সাথে মেলে না।
নির্দিষ্ট আয়াত কি প্রমাণিত? কিছু নির্দিষ্ট আয়াতের কথা হাদিসে এসেছে, যেমন বিচ্ছুর কামড়ে এক সাহাবি সূরা ফাতিহা পড়ে রুকইয়াহ করেছিলেন (সহিহ বুখারি ৫৭৪৯)। নবী ﷺ-এর ওপর জাদু হলে সূরা ফালাক ও নাসের মাধ্যমে আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল। তবে এগুলো সাধারণ দিকনির্দেশনা; প্রতিটি রোগের জন্য নির্দিষ্ট আয়াতের তালিকা সহিহ সূত্রে বাঁধা নেই।
দোয়া দিয়েও রুকইয়াহ হয়: জিবরাইল (আ.) নবী ﷺ-কে কুরআন নয়, দোয়া দিয়ে রুকইয়াহ করেছিলেন: بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ، مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، اللَّهُ يَشْفِيكَ، بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ আল্লাহর নামে আপনাকে রুকইয়াহ করছি, আপনাকে কষ্ট দেয় এমন সবকিছু থেকে, প্রতিটি মন বা হিংসুকের নজরের অনিষ্ট থেকে; আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য দিন। আল্লাহর নামে আপনাকে রুকইয়াহ করছি। (সহিহ মুসলিম ২১৮৬)
ইসলামের আগেও রুকইয়াহ ছিল: সাহাবিরা জাহেলি যুগের রুকইয়াহ সম্পর্কে জানতে চাইলে নবী ﷺ বললেন, তোমাদের রুকইয়াহগুলো আমার কাছে পেশ করো; যে রুকইয়াহয় শিরক নেই তাতে সমস্যা নেই। (সহিহ মুসলিম ২২০০) তিনি আরও বলেছেন, তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের উপকার করতে পারলে সে যেন করে। (সহিহ মুসলিম ২১৯৯) অর্থাৎ তিনি "শুধু কুরআন দিয়ে করো" বলে সীমাবদ্ধ করেননি, বরং কথাগুলো যাচাই করে শিরক বা ভুল থাকলে বাদ দিয়েছেন।
সারকথা:
- রুকইয়াহ শুধু কুরআনে সীমাবদ্ধ নয়; শুদ্ধ দোয়া ও বৈধ, বোধগম্য কথা দিয়েও করা যায়।
- রুকইয়াহ এমন এক জ্ঞান, যেখানে শরিয়তের সীমার ভেতরে অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ গ্রহণযোগ্য। কিছু দোয়া হিংসার প্রভাব দূর করে, কিছু জাদু নষ্ট করে, কিছু শয়তানকে আটকে দেয়।
- শর্ত একটাই: শিরকমুক্ত, অর্থবোধক এবং এই বিশ্বাসে যে আরোগ্য দেন শুধু আল্লাহ।
হাদিসের নম্বর প্রচলিত গণনা অনুযায়ী।