বদনজরের প্রকার ও বৈশিষ্ট্য
মানুষের নজর, জ্বীনের নজর, জাদুকরের নজর — সব নজর এক নয়। নজরের প্রকার আর তার গোপন বৈশিষ্ট্য জানলে চিকিৎসা হয় নির্ভুল।
কার নজর:
- মানুষের নজর: শক্তিশালী ও গভীর নজর দৃঢ়ভাবে বসে যায়, বের করতে লম্বা সময় ও বারবার রুকইয়াহ লাগে। হালকা নজর সাধারণত দু-তিনবার রুকইয়াহতেই চলে যায়।
- জ্বীনের নজর: হ্যাঁ, জ্বীনেরও নজর লাগে। নবী ﷺ জ্বীন ও মানুষের নজর থেকে আশ্রয় চাইতেন, আর সূরা ফালাক ও নাস নাজিলের পর সেগুলো দিয়েই আশ্রয় নিতেন। (তিরমিজি ২০৫৮)
- জাদু যে করিয়েছে তার নজর: সে আগে প্রচণ্ড হিংসা করে, তারপর জাদু করায়। এই নজর জাদুর সাথে মিশে যায়, তাই খুব কষ্টদায়ক এবং বের করতে বেশি চাপ লাগে।
- জাদুকরের নজর: সরাসরি জাদুর প্রক্রিয়ার ভেতর ঢুকে যায়।
- একক শক্তিশালী দৃষ্টি: একবারের নজর হলেও খুব শক্তিশালী, শয়তানের সহায়তায় পেছনে লেগে থাকে।
নজরের বৈশিষ্ট্য:
- নজরেরও গ্রন্থি থাকে, জাদুর মতোই। গ্রন্থি খোলার রুকইয়াহ করলে রোগী তা অনুভব করেন এবং ধীরে ধীরে আরাম পান।
- নজর বিস্তারিত পছন্দ করে। দোয়ায় যত নির্দিষ্ট করে বলবেন, তত ভালো: কোন জিনিসের ওপর নজর (সৌন্দর্য, সম্পদ, সন্তান, পড়াশোনা), কী ক্ষতি করেছে (চেহারা নষ্ট, মনোযোগ কমে যাওয়া), কোথায় ও কখন লেগেছে (যেমন, চাচার বাড়িতে, বিয়ের দিন)। সম্ভাব্য হিংসুক ব্যক্তির নামও বলুন।
- নজর একত্র হয়: সব নজরকে একসাথে সম্বোধন করে রুকইয়াহ করলে রোগী তার উপস্থিতি অনুভব করতে পারেন।
- নজর টেনে বের করা যায়: বারবার «বিসমিল্লাহ» বলা হলে রোগী হাই তুলতে শুরু করেন, নজর বের হতে থাকে।
- বের হওয়ার লক্ষণ: হাই, চোখে পানি, বমি, হাত-পা দিয়ে কিছু বেরিয়ে যাওয়ার অনুভূতি।
উপকারী পদ্ধতি: «বিসমিল্লাহিল ফাত্তাহ» বারবার পড়ে দোয়া করা, যাতে বন্ধ দরজাগুলো খুলে যায়; প্রয়োজনে অভিজ্ঞ থেরাপিস্টের মাধ্যমে হিজামা।
নজরের সাথে লেগে থাকা শয়তান: কিছু শয়তান নজরের সাথে যুক্ত হয়ে আক্রান্তকে সবসময় অনুসরণ করে ও কষ্ট দেয়। সাধারণ হিংসুক একবার নজর দিয়ে চলে যায়, কিন্তু এটি সঙ্গে থেকে যায়। এ জন্য নজরের পাশাপাশি এই শয়তানের জন্যও রুকইয়াহ দরকার।
হাদিসের নম্বর প্রচলিত গণনা অনুযায়ী।
লেখা ও যাচাই: রাক্বী হিজবুল্লাহ